প্রস্রাব কম হলে কি মারাত্মক সমস্যা? এখনই জানুন সমাধান

প্রস্রাব কম হলে বিপদ হতে পারে! জেনে নিন কারণ, প্রতিকার ও করণীয়। সময়মতো চিকিৎসা পেলে এই সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব।

ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন

প্রস্রাব কম হওয়া সম্পর্কে জানুন

হ্যালো, প্রিয় পাঠকগণ! আজ আমরা একটা গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে কথা বলব – "প্রস্রাব কম হওয়া"। এটা এমন একটা অবস্থা যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে। কল্পনা করুন, আপনি সারাদিন গরমে ঘামছেন বা কাজের চাপের কারণে পানি খাওয়া হচ্ছে না। হঠাৎ খেয়াল করলেন প্রস্রাবের পরিমাণ আগের তুলনায় কমে গেছে। অনেকেই এটাকে তুচ্ছ ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু সত্যি হলো, "প্রস্রাব কম হওয়া" শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গুরুতর সমস্যার সংকেত হতে পারে।

এই ব্লগ পোস্টে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব প্রস্রাব কম হওয়ার কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা নিয়ে। বিশেষ করে, আমরা ফোকাস করব "প্রস্রাব কম হলে করণীয়", "গরমে প্রস্রাব কম হওয়া" এবং "শিশুদের প্রস্রাব কম হলে করণীয়" এই টপিকগুলোতে। এছাড়া, আমরা জানাব কীভাবে আমাদের টেলিমেডিসিন সার্ভিসের মাধ্যমে আপনি ঘরে বসে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে কথা বলে এই সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পেতে পারেন।

দ্রুত সংক্ষেপ: এই ব্লগ পোস্টে আপনি যা শিখবেন: প্রস্রাব কম হওয়ার কারণ ও লক্ষণ, প্রস্রাব কম হলে করণীয়, গরমে প্রস্রাব কম হলে করণীয়, শিশুদের প্রস্রাব কম হলে করণীয়, কখন ডাক্তারের সাহায্য নেবেন এবং কীভাবে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে ঘরে বসে চিকিৎসা নেবেন।

প্রস্রাব কম হওয়ার কারণসমূহ

প্রস্রাব কম হওয়া, যাকে মেডিক্যাল টার্মে অলিগুরিয়া বলা হয়, এটা কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়ার কারণে হয়। ফলে শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ ঠিকমতো বের হতে পারে না এবং প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়। এটা শুধু একটা সাময়িক সমস্যা নয়, এর পিছনে থাকতে পারে অনেকগুলো কারণ। আসুন বিস্তারিত জানি।

প্রস্রাব কম হওয়ার প্রধান কারণসমূহ

  • পানিশূন্যতা: শরীরে পানির অভাব হলে কিডনিতে প্রস্রাব তৈরি কমে যায়
  • কিডনির অসুখ: কিডনি ফেইলিউর, কিডনি ইনফেকশন বা কিডনিতে পাথর
  • প্রস্টেটের সমস্যা: পুরুষদের প্রস্টেট বড় হলে প্রস্রাব আটকে যায়
  • ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন: সংক্রমণ হলে প্রস্রাব কম হতে পারে
  • ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: কিছু ওষুধ শরীরের পানি-লবণ ভারসাম্য নষ্ট করে
  • গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় হরমোনাল পরিবর্তন ও জরায়ুর চাপের কারণে
  • দীর্ঘস্থায়ী অসুখ: ডায়াবেটিস, হার্ট ফেইলিউর, লিভারের অসুখ

প্রস্রাব কম হওয়ার লক্ষণসমূহ

প্রস্রাব কম হওয়ার লক্ষণগুলো সাধারণত ধীরে ধীরে শুরু হয়। প্রথমে হালকা অস্বস্তি, তারপর তীব্রতা বাড়ে। আসুন একটা গল্প দিয়ে বোঝাই। আমার এক রোগী ডা. রোমানুল ইসলামের টেলিমেডিসিন সেবায় ফোন করেছিলেন—"ডাক্তার সাহেব, আমি সারাদিন খুব কম প্রস্রাব করছি, আর রঙও গাঢ়। গরমে এটা কি স্বাভাবিক, নাকি আমার কিডনির সমস্যা?" এটা ক্লাসিক লক্ষণ।

প্রস্রাব কম হওয়ার সাধারণ লক্ষণসমূহ

  • প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া - দিনে ২-৩ বার বা তারও কম
  • প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হলুদ বা বাদামী হয়ে যাওয়া
  • শরীর ফুলে যাওয়া - হাত, পা, মুখ বা চোখ ফুলে যাওয়া
  • ক্লান্তি এবং দুর্বলতা - সারাদিন ক্লান্তি অনুভব করা
  • মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা - পানিশূন্যতার কারণে
  • প্রস্রাব করার সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া
  • তৃষ্ণা বৃদ্ধি পাওয়া - শরীর পানির জন্য সংকেত দেয়
  • বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া - কিডনির সমস্যার কারণে

প্রস্রাব কম হলে করণীয়

প্রাকৃতিকভাবে প্রস্রাব স্বাভাবিক করতে এই ঘরোয়া উপায় চেষ্টা করুন

💧

প্রচুর পানি পান করুন

প্রথম ধাপ হলো শরীরকে হাইড্রেট রাখা। দিনে কমপক্ষে ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত

🍉

পানি-সমৃদ্ধ ফল খান

শসা, তরমুজ, আনারস, কমলা, মাল্টা, নারকেলের পানি খান

🥗

লবণ কম খান

অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে, ফলে প্রস্রাব কমে

🚫

ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন

চা-কফি ক্যাফেইনযুক্ত, যা শরীরকে আরও পানিশূন্য করে ফেলে

🍵

হার্বাল চা পান করুন

গ্রিন টি, তুলসী চা বা আদা চা পান করুন যা প্রস্রাব স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে

গরমে প্রস্রাব কম হলে করণীয়

গরমে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। ফলে কিডনিতে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি থাকে না এবং প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়। একজন রোগীর গল্প: তিনি গ্রীষ্মকালে প্রতিদিন অনেক কাজ করার পর বুঝতে পারেন, সারাদিনে মাত্র ২ বার প্রস্রাব করছেন। পরে জানা গেল তিনি পর্যাপ্ত পানি খাচ্ছেন না। তাহলে করণীয় কী?

গরমে প্রস্রাব কম হওয়া রোধ করার উপায়

  • প্রচুর পানি পান: দিনে অন্তত ২.৫–৩ লিটার পানি খাওয়া উচিত
  • নারকেলের পানি: ইলেক্ট্রোলাইট থাকে যা শরীরের পানির ভারসাম্য ঠিক রাখে
  • তরল খাবার: স্যুপ, জুস, ডাবের পানি বেশি করে খান
  • হালকা রঙের পোশাক: গাঢ় রঙের পোশাক গরম বেশি ধরে, বেশি ঘাম হয়
  • ছায়ায় থাকুন: সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন
  • সময়মতো প্রস্রাব করুন: প্রস্রাব চেপে রাখবেন না
  • মূত্র পরীক্ষা: প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হলে বুঝবেন পানি কম খাচ্ছেন

শিশুদের প্রস্রাব কম হলে করণীয়

শিশুরা সহজেই ডিহাইড্রেশনে ভোগে। যদি শিশুর ডায়াপার দীর্ঘ সময় শুকনো থাকে, মুখ শুকিয়ে যায় বা কান্না করলে চোখে পানি না আসে – এগুলো বিপদের সংকেত। আমার এক কিশোরী রোগীর ক্ষেত্রে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সারাদিন পানি না খেয়ে ছিল, ফলে প্রস্রাব কমে যায় এবং মাথা ঘুরছিল।

শিশুদের প্রস্রাব কম হলে করণীয়

  • পর্যাপ্ত তরল পান করানো: শিশুকে নিয়মিত পানি, জুস, স্যুপ খাওয়ান
  • ডায়াপার চেক করা: ডায়াপার ভিজছে কিনা লক্ষ্য করুন
  • লক্ষণ দেখা: মুখ শুকনো, চোখে পানি না আসা, ক্লান্তি
  • খেলার সময় পানি দেয়া: শিশুরা খেলতে গিয়ে পানি খেতে ভুলে যায়
  • ডাক্তারের পরামর্শ: প্রস্রাবে জ্বালা বা জ্বর থাকলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নেওয়া জরুরি
  • ফল খাওয়ান: তরমুজ, আনারস, কমলা ইত্যাদি পানি-সমৃদ্ধ ফল

গর্ভাবস্থায় প্রস্রাব কম হলে করণীয়

গর্ভবতী মায়েদের প্রস্রাব কম হওয়া অস্বাভাবিক। এটি কিডনির চাপ বা ইনফেকশনের কারণে হতে পারে। গর্ভাবস্থায় হরমোনাল পরিবর্তন ও জরায়ুর চাপের কারণে প্রস্রাবের ধরণ বদলায়। কখনও কমে যায়, কখনও বারবার প্রস্রাব হয়।

গর্ভাবস্থায় প্রস্রাব কম হলে করণীয়

  • প্রচুর পানি পান: গর্ভবতী মায়েদের আরও বেশি পানি প্রয়োজন
  • নিয়মিত চেকআপ: প্রস্রাব পরীক্ষা ও রক্তচাপ মাপা
  • লবণ কম খাওয়া: প্রি-একলাম্পসিয়া প্রতিরোধে লবণ কম খান
  • ডাক্তারের পরামর্শ: শরীর ফুলে গেলে বা প্রস্রাব একেবারেই কমে গেলে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে
  • বিশ্রাম নিন: ক্লান্তি এড়িয়ে চলুন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন

প্রস্রাব কম হওয়া প্রতিরোধের উপায়

প্রতিরোধই সেরা। নিয়মিত পানি পান করা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, লবণ কম খাওয়া। দীর্ঘস্থায়ী অসুখ থাকলে নিয়মিত চেকআপ করা। প্রস্রাব চেপে না রাখা। ইমিউনিটি বাড়াতে ব্যায়াম করা।

কখন ডাক্তারের সাহায্য নেবেন?

যদি প্রস্রাব ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অস্বাভাবিক কম হয়, শরীর ফুলে যায়, উচ্চ রক্তচাপ, প্রস্রাবে রক্ত, তীব্র ব্যথা – তাহলে অবশ্যই। শিশু, বয়স্ক বা ক্রনিক রোগীদের ক্ষেত্রে তাড়াতাড়ি।

আমাদের টেলিমেডিসিন সার্ভিস: কেন চয়েস করবেন?

আমাদের টেলিমেডিসিন সার্ভিস আপনাকে দেয়: বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ২৪/৭ অ্যাক্সেস, ভিডিও, চ্যাট বা অডিও কনসালটেশন, সাশ্রয়ী মূল্য এবং ফ্রি পরামর্শ, প্রেসক্রিপশন, ল্যাব টেস্ট অর্ডার এবং ফলোআপ, প্রাইভেসি এবং সিকিউরিটি।

এখনই অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন

২৪/৭ ডাক্তার পরামর্শ

যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গা থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে কথা বলুন

ঘরে বসে চিকিৎসা

হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যাওয়ার ঝামেলা ছাড়াই চিকিৎসা সেবা পান

সাশ্রয়ী মূল্য

সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করুন

ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন

অনলাইনেই প্রেসক্রিপশন পান এবং ওষুধ অর্ডার করুন

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

প্রশ্ন ১: দিনে কয়বার প্রস্রাব করা স্বাভাবিক? +
উত্তর: সাধারণভাবে দিনে ৪–৭ বার প্রস্রাব করা স্বাভাবিক ধরা হয়। তবে আপনি যদি দিনে ২–৩ বার মাত্র প্রস্রাব করেন, এবং প্রস্রাব গাঢ় রঙের হয়, তাহলে এটি প্রস্রাব কম হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
প্রশ্ন ২: প্রস্রাব কম হলে কি সবসময় কিডনির অসুখ বোঝায়? +
উত্তর: না। অনেক সময় শুধু পানি কম খাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম বা গরমে কাজ করার কারণে প্রস্রাব কম হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি হলে কিডনির সমস্যা হতে পারে।
প্রশ্ন ৩: প্রস্রাব কম হলে প্রথমে কী করা উচিত? +
উত্তর: প্রথমে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। যদি তবুও প্রস্রাব কম থাকে এবং এর সাথে ফুলে যাওয়া, ব্যথা বা মাথা ঘোরা থাকে তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
প্রশ্ন ৪: গরমে কেন প্রস্রাব কমে যায়? +
উত্তর: গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়। ফলে কিডনিতে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি থাকে না এবং প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়।
প্রশ্ন ৫: শরীরে পানিশূন্যতা কিভাবে বোঝা যায়? +
উত্তর: তৃষ্ণা, ঠোঁট ফেটে যাওয়া, প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হওয়া, মাথা ঘোরা এবং ক্লান্তি – এগুলো পানিশূন্যতার প্রধান লক্ষণ।
প্রশ্ন ৬: শিশুদের প্রস্রাব কম হলে কি বিপদ হতে পারে? +
উত্তর: শিশুরা সহজেই ডিহাইড্রেশনে ভোগে। যদি শিশুর ডায়াপার দীর্ঘ সময় শুকনো থাকে, মুখ শুকিয়ে যায় বা কান্না করলে চোখে পানি না আসে – এগুলো বিপদের সংকেত।
প্রশ্ন ৭: গর্ভাবস্থায় প্রস্রাব কম হলে কি তা স্বাভাবিক? +
উত্তর: না, একেবারেই স্বাভাবিক নয়। গর্ভাবস্থায় প্রস্রাব কম হলে তা কিডনি বা ইউরিনারি ইনফেকশনের লক্ষণ হতে পারে। দ্রুত ডাক্তার দেখানো উচিত।
প্রশ্ন ৮: প্রস্রাব কম হলে কি বেশি ফল খাওয়া উচিত? +
উত্তর: হ্যাঁ। শসা, তরমুজ, আনারস, কমলা, মাল্টা, নারকেলের পানি – এগুলো শরীরকে হাইড্রেট রাখে এবং প্রস্রাব স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে।
প্রশ্ন ৯: প্রস্রাব কম হলে চা–কফি খাওয়া কি ভালো? +
উত্তর: না। চা–কফি ক্যাফেইনযুক্ত, যা প্রস্রাবের পরিমাণ অস্থায়ীভাবে বাড়ালেও শরীরকে আরও পানিশূন্য করে ফেলে।
প্রশ্ন ১০: রাতে কম প্রস্রাব হওয়া কি স্বাভাবিক? +
উত্তর: হ্যাঁ। ঘুমের সময় শরীর কম পানি বের করে। তবে একেবারে না হলে বা সকালে প্রস্রাব খুব গাঢ় হলে সমস্যা হতে পারে।
প্রশ্ন ১১: প্রস্রাব কম হলে লবণ কম খাওয়া দরকার কেন? +
উত্তর: অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে, ফলে কিডনিতে প্রস্রাব তৈরি কম হয়। তাই কম লবণ খাওয়া জরুরি।
প্রশ্ন ১২: প্রস্রাব কম হওয়ার কারণে কি মাথাব্যথা হতে পারে? +
উত্তর: হ্যাঁ। ডিহাইড্রেশনের কারণে শরীরে রক্তচাপ ওঠানামা করে এবং মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা হতে পারে।
প্রশ্ন ১৩: প্রস্রাব কম হলে কি ইউরিন টেস্ট করানো দরকার? +
উত্তর: অবশ্যই। ইউরিন টেস্টে কিডনির কার্যকারিতা, সংক্রমণ বা অন্যান্য সমস্যা ধরা পড়ে।
প্রশ্ন ১৪: কম প্রস্রাব হওয়া কি ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে? +
উত্তর: হ্যাঁ, অনেক সময় ডায়াবেটিসে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে প্রস্রাব কমে যেতে পারে বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
প্রশ্ন ১৫: প্রস্রাব কম হলে শরীর ফুলে যায় কেন? +
উত্তর: যখন কিডনি ঠিকমতো পানি বের করতে পারে না, তখন পানি শরীরে জমে যায়। ফলে হাত-পা, মুখ ও চোখ ফুলে যায়।
প্রশ্ন ১৬: শিশু দিনে কতবার প্রস্রাব করলে স্বাভাবিক ধরা হবে? +
উত্তর: শিশুরা সাধারণত দিনে ৬–৮ বার প্রস্রাব করে। এর কম হলে সেটা অস্বাভাবিক এবং পানিশূন্যতার ইঙ্গিত হতে পারে।
প্রশ্ন ১৭: প্রস্রাব কম হলে কি ব্যায়াম বন্ধ রাখা উচিত? +
উত্তর: না, ব্যায়াম চালিয়ে যেতে হবে। তবে ব্যায়ামের সময় ও পরে বেশি পানি খাওয়া জরুরি।
প্রশ্ন ১৮: প্রস্রাব কম হলে কি সবসময় ডাক্তার দেখাতে হবে? +
উত্তর: যদি এটা সাময়িক হয় এবং পানি খাওয়ার পর স্বাভাবিক হয়ে যায়, তবে সমস্যা নেই। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার বেশি চললে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
প্রশ্ন ১৯: প্রস্রাব কম হলে কি শরীরে টক্সিন জমে যায়? +
উত্তর: হ্যাঁ। কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীর থেকে বর্জ্য বের হয় না। এতে শরীরে টক্সিন জমে অসুস্থতা বাড়ে।
প্রশ্ন ২০: প্রস্রাব কম হলে কি শুধুমাত্র পানি খেলেই সমাধান হয়? +
উত্তর: সব সময় নয়। কারণ যদি কিডনি বা প্রস্টেট সমস্যা থাকে, শুধু পানি খেয়ে সমাধান হবে না। চিকিৎসা প্রয়োজন হবে।
প্রশ্ন ২১: গরমের সময় প্রস্রাব স্বাভাবিক রাখতে কত পানি খেতে হবে? +
উত্তর: প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে অন্তত ২.৫–৩ লিটার পানি খাওয়া উচিত। কাজ বেশি করলে বা ঘাম বেশি হলে আরও বেশি লাগতে পারে।
প্রশ্ন ২২: নারকেলের পানি কি প্রস্রাব স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে? +
উত্তর: হ্যাঁ। নারকেলের পানিতে ইলেক্ট্রোলাইট থাকে যা শরীরের পানির ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
প্রশ্ন ২৩: প্রস্রাব কম হলে কোন ফল এড়ানো উচিত? +
উত্তর: খুব বেশি কাঁচা কলা বা অতিরিক্ত কড়া চা–কফি এড়ানো উচিত, কারণ এগুলো শরীরকে ডিহাইড্রেট করতে পারে।
প্রশ্ন ২৪: প্রস্রাব কম হওয়া কি লিভারের অসুখের কারণে হতে পারে? +
উত্তর: হ্যাঁ। লিভারের রোগে শরীরে পানি জমে যায় এবং প্রস্রাব কমে যেতে পারে।
প্রশ্ন ২৫: প্রস্রাব কম হলে ওজন বেড়ে যেতে পারে কি? +
উত্তর: হ্যাঁ। পানি জমে গেলে ওজন অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারে।
প্রশ্ন ২৬: প্রস্রাব কম হলে গরম স্যুপ খাওয়া কি উপকারী? +
উত্তর: হ্যাঁ। গরম স্যুপ শরীরে তরল বাড়ায় এবং প্রস্রাবের ভারসাম্য স্বাভাবিক করে।
প্রশ্ন ২৭: প্রস্রাব কম হওয়া কি সবসময় বিপদজনক? +
উত্তর: সবসময় নয়। সাময়িক কারণে হলেও হতে পারে। তবে যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে এটা অবশ্যই সতর্কতার সংকেত।
প্রশ্ন ২৮: প্রস্রাব কম হলে কি ঘরে বসে চিকিৎসা করা সম্ভব? +
উত্তর: হ্যাঁ, যদি কারণটা পানিশূন্যতা বা গরমজনিত হয়। তবে কিডনি বা প্রস্টেট সমস্যার ক্ষেত্রে চিকিৎসক ছাড়া উপায় নেই।
প্রশ্ন ২৯: প্রস্রাব কম হলে কি রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে? +
উত্তর: হ্যাঁ। কিডনির সমস্যায় শরীরে লবণ–পানির ভারসাম্য নষ্ট হয়, এতে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।
প্রশ্ন ৩০: টেলিমেডিসিনে কি প্রস্রাব কম হওয়ার চিকিৎসা পাওয়া যায়? +
উত্তর: অবশ্যই। বাড়িতে বসেই অনলাইনে ডাক্তারকে আপনার লক্ষণ জানাতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় টেস্ট ও ওষুধের পরামর্শ নিতে পারবেন।

লেখক পরিচিতি

ডা. রোমানুল ইসলাম স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট প্রস্তুতকারক। এই লেখাগুলো সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত।

এই আর্টিকেলটি চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। ব্যক্তিগত সমস্যার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। বিস্তারিত জানতে ডিসক্লেইমার দেখুন।

WhatsApp